মোঃ ইলিয়াছ খান (সালথা উপজেলা)প্রতিনিধি ফরিদপুর:
ফরিদপুরের নগরকান্দায় ভয়াবহ ফরিদপুর সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাস ও একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে ২০২৬) সকাল সোয়া ১০টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দা উপজেলার শংকরপাশা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার তাঁতীবাড়ি এলাকার জাহাঙ্গীর মোল্লা (৬৫), তার স্ত্রী মাজেদা আক্তার (৫৫), জাহাঙ্গীর মোল্লার ভাই আলমগীর মোল্লা (৬০), আলমগীরের স্ত্রী খুশিদা বেগম (৫০) এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক কাউসার হোসেন (২৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৬৮৩৬ নম্বরের একটি বিআরটিসি বাস ফরিদপুর থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে একটি অ্যাম্বুলেন্স মাদারীপুর থেকে ফরিদপুরে আসছিল। সকাল সোয়া ১০টার দিকে শংকরপাশা এলাকায় পৌঁছালে দুই গাড়ির মধ্যে ভয়াবহ বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের পর অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ভেতরে থাকা যাত্রীরা আটকা পড়েন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং কয়েকজনকে বের করতে সক্ষম হন। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা ফায়ার সার্ভিস ও ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে চালক কাউসার হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনায় বাসের কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হলেও বাসটির বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
নিহত পরিবারের স্বজনরা জানান, আলমগীর মোল্লা কিছুদিন আগে স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে ফরিদপুরে নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।
দুপুর ১২টার দিকে নিহতদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিহত জাহাঙ্গীর মোল্লার ভাগ্নি জাফরিন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মামার আর চিকিৎসা করানো হলো না। একসঙ্গে দুই মামা ও দুই মামীকে হারালাম।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।