এম ডি ফারুক মিয়া, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমির মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে রমজান আলী নামে এক সৌদি আরব প্রবাসীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের পূর্ব সোনাপুর গ্রামে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পূর্ব সোনাপুর গ্রামের ইসমাইল আলীর ছেলে সিদ্দিক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন মানুষের জমি জোরপূর্বক দখল করে ভোগ করছেন। একই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে রমজান আলী দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকার সুযোগে চেলা নদীর তীরবর্তী তার জমিও দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, নিজের জমি অন্যরা ভোগ করছেন এমন খবর পেয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন রমজান আলী। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি জমির বিষয়টি নিয়ে সিদ্দিক মিয়াকে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সিদ্দিক মিয়া ও তাজউদ্দীনের নেতৃত্বে কয়েকজন তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলার সময় রমজান আলীকে বাড়িতে ফেলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ছাড়া ওইদিন বিকেলে রমজান আলীর অনুপস্থিতিতে তার বসতঘরে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও উঠেছে। ঘর থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সময়মতো আশপাশের মানুষ এগিয়ে না এলে রমজান আলী আরও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারতেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পূর্ব সোনাপুর গ্রামের ছেনু মিয়া, আমির হামজা, আমির জায়েদ, বসুর উদ্দিন, আ. আলী, সাহিদ মিয়া, শামিম মিয়া, সুমন সিকদার, রেজিয়া বেগম ও ওসি বিবি।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সিদ্দিক মিয়া ও তাজউদ্দীনের প্রভাব ও অত্যাচারে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ। জমি নিয়ে কেউ আপত্তি জানালে দলবল নিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে রমজান আলীর জমির মালিকানা ও সীমানা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ সুষ্ঠুভাবে তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, এখনো থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।