স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের তেতুলিয়া দক্ষিণ বিল এলাকায় অবৈধভাবে ফসলি জমির টপসয়েল কাটা প্রতিরোধে রাতভর অভিযান পরিচালনা করেছে পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসন। কৃষিজমির উর্বরতা রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
শনিবার (৭ জুন) রাত ১১টা থেকে রোববার (৮ জুন) রাত ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন পুঠিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তেতুলিয়া দক্ষিণ বিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি ও পরিবহনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সুযোগও তৈরি হয়নি। তবে ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত একটি এস্কেভেটর (খননযন্ত্র) শনাক্ত করা হয়।
প্রশাসন জানায়, পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধা না থাকায় এস্কেভেটরটি জব্দ করে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে এবং পুনরায় ব্যবহার রোধে যন্ত্রটি যান্ত্রিকভাবে অকেজো করে দেওয়া হয়। এতে সংশ্লিষ্টদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে মাটি কাটার কার্যক্রম পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফসলি জমির টপসয়েল কাটা কৃষি উৎপাদনের জন্য মারাত্মক হুমকি। জমির ওপরের উর্বর স্তর অপসারণ করা হলে ফসল উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে পরিবেশগত ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রশাসন সকল নাগরিককে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন নাগরিকরা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপের ফলে কৃষিজমি রক্ষা পাবে এবং অবৈধ মাটি কাটা কার্যক্রম বন্ধ হবে।