পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি শিক্ষা উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সমাজকর্মী মামুনী চাকমা। আর্থিক সংকটের কারণে তার অনেক উদ্যোগ থমকে গেলেও, তিনি থেমে যাননি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ের অনেক শিশু এখনও মূলধারার শিক্ষা থেকে পিছিয়ে আছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও দুর্গম অঞ্চলের পরিবারগুলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই বাস্তবতা বদলাতে এগিয়ে এসেছেন মামুনী চাকমা। তিনি ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষার আওতায় আনা এবং তাদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কাজ করছেন।
প্রায় ১১ বছর ধরে তিনি স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। সুবিধাবঞ্চিত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা তার অন্যতম প্রধান উদ্যোগ। তার এই প্রচেষ্টা স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
এছাড়াও নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করেছিলেন তিনি। সেলাই, বুনন, কম্পিউটার শিক্ষা, হস্তশিল্প এবং ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে পাহাড়ি নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু অর্থের অভাবে বর্তমানে এসব কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে।
মামুনী চাকমা জানান, তিনি রাঙ্গামাটি জেলার ১০টি উপজেলায় তার কার্যক্রম বিস্তৃত করতে চান। এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত অর্থ ও সরকারি সহায়তা। তাই তিনি পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন, যাতে এই মানবিক কাজগুলো আরও বিস্তৃতভাবে চালানো সম্ভব হয়।
স্থানীয়রা মনে করেন, যথাযথ সহায়তা পেলে মামুনী চাকমার এই উদ্যোগ পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার এই মানবিক প্রচেষ্টা অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।