নিজস্ব প্রতিবেদক:
যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতের দারস্থ হয়েছেন এক গৃহবধূ। ন্যায়বিচার চেয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের সময় তার পিতা স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও নগদ ২ লাখ টাকা উপঢৌকন হিসেবে প্রদান করেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী পুনরায় যৌতুকের দাবিতে তাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ ও নির্যাতন করতে থাকেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে ভুক্তভোগী তার ভাইদের কাছ থেকে ওয়ারিস সূত্রে পাওয়া ৬ লাখ টাকা এনে স্বামীকে দেন। তবে স্বামী ওই অর্থ অপব্যয় করেন। তিনি নেশাগ্রস্ত এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ব্যবসার অজুহাতে আরও ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে চাপ সৃষ্টি করা হয়। সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় এতদিন নির্যাতন সহ্য করলেও শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে আইনি পদক্ষেপ নেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিন তাকে পিতার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন স্থানীয় কয়েকজনের উপস্থিতিতে আবারও ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে স্বামী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেন—দাবিকৃত টাকা না দিলে তাকে তালাক দিয়ে অধিক যৌতুকের আশায় দ্বিতীয় বিয়ে করবেন।
স্থানীয় সাক্ষীরা যৌতুক ছাড়া সংসার করার পরামর্শ দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্ত্রীকে পিতার বাড়িতে রেখে চলে যান। বর্তমানে ভুক্তভোগী পিতার বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং অভিযোগ করেন, স্বামী তার কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না বা ভরণপোষণ দিচ্ছেন না।
এ ঘটনায় আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা চললেও ফলপ্রসূ না হওয়ায় অবশেষে আদালতে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০-এর ৩ ধারায় মামলা গ্রহণ ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।