নাগেশ্বরী উপজেলা-তে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যখন দেশের অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে, তখনও চালু রয়েছে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা। বিশেষ করে নাগেশ্বরী পরিবার পরিকল্পনা সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখে একটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ।
ঈদের ছুটির সময়েও উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়মিতভাবে গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ প্রসব, প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যা এবং পরিবার পরিকল্পনা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের জন্য প্রজনন স্বাস্থ্যসেবাও চালু রাখা হয়েছে। এতে করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ সহজেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন।
জানা গেছে, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা ঈদের ছুটিতেও নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। ফলে ঈদে স্বাস্থ্যসেবা নাগেশ্বরী এলাকায় এক ভরসার নাম হয়ে উঠেছে।
গত ১৭ মার্চ থেকে ঈদের ছুটি শুরু হলেও গর্ভবতী নারীদের প্রাথমিক সেবা বন্ধ হয়নি। বরং ছুটির মধ্যেই বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে সফলভাবে স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
উপজেলার নেওয়াশি ইউনিয়নের বাসিন্দা জরিনা বেগম জানান, ঈদের সময় এমন সেবা পাওয়া তাদের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখেছেন সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকভাবে সেবা দিচ্ছেন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরি স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখার এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের আস্থা বাড়িয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ শুধু একটি প্রশাসনিক সাফল্য নয়, বরং এটি একটি মানবিক উদাহরণ। ভবিষ্যতেও এমন সেবা অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যখাত আরও শক্তিশালী হবে।