নরসিংদী থেকে বাবুল মিয়া
নরসিংদী পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একমাত্র কবরস্থানটি বর্তমানে চরম অবহেলা ও অনিয়মের শিকার। প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কবরস্থানের অধিকাংশ জায়গায় হাঁটুসমান পানি জমে আছে। চারপাশে ঘন ঝোপঝাড় থাকায় দিনের বেলাতেও সেখানে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। মৃতদেহ দাফন করা তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের চলাচলও প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। বছরের বেশিরভাগ সময় কবরস্থানটি পানির নিচে থাকে, যা এলাকাবাসীর জন্য বড় ভোগান্তির কারণ।
স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, তারা নিজেরাই ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা তুলে একটি অংশে মাটি ভরাট করেছেন। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া টাকা কোথায় গেল?
আরেক বাসিন্দা ইকবাল হোসেন জানান, কবরস্থানটি এখন প্রায় জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কাজ না হওয়ায় সবাই ক্ষুব্ধ।
এ বিষয়ে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান বলেন, কিছু মাটি ইতোমধ্যে ফেলা হয়েছে এবং বাকি কাজ দ্রুত শুরু হবে। তবে তিনি দাবি করেন, এই টাকায় পুরো কাজ শেষ করা সম্ভব নয় এবং বিভিন্ন খাতে খরচ হয়।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানান, দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী পর্যন্ত কবরস্থানের সঠিক অবস্থান সম্পর্কে অবগত নন। এছাড়া পৌর প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও রয়েছে।
পৌর ক্যাশিয়ার অলেক মিয়ার বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার কোনো সমস্যা হবে না, আপনারা নিউজ করেন।” এমন বক্তব্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি কবরস্থানটি দ্রুত সংস্কার করে দাফনের উপযোগী করতে হবে।
সচেতন মহলের মতে, এই ঘটনা শুধু জনদুর্ভোগ নয়, বরং প্রশাসনিক দুর্বলতারও একটি বড় উদাহরণ।