নরসিংদী সদর উপজেলার শেখেরচরে এক শোকাবহ ঘটনা ঘটেছে। সাত বছরের এক শিশুকে পৈশাচিকভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, আজহারের ছেলে রিফাত নামক এক যুবক লালসার শিকার হয়ে শিশুটিকে একটি নির্জন স্থানে ফুসলিয়ে নিয়ে যায় এবং তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের তীব্রতায় শিশুটি গুরুতর আহত হয় এবং রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।
শিশুটির আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং তার জীবন ও মানসিক নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এলাকায় নিন্দার ঝড়
ঘটনাটি এলাকায় প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই শোক ও ক্ষোভের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। শেখেরচরসহ নরসিংদী জুড়ে সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন যে, এমন পৈশাচিক অপরাধ সমাজের জন্য লজ্জার বিষয় এবং অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয়দের মধ্যে একাংশ প্রকাশ্যে বলেছেন, “আমরা এমন সমাজ চাই না যেখানে আমাদের সন্তানরা নিরাপদ নয়। রিফাতের মতো নরপশুর ফাঁসি চাই।” এ ধরনের মন্তব্য এলাকার জনজীবনে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
পুলিশি ব্যবস্থা
শিশুটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রিফাতকে গ্রেপ্তার করেছে। সদর থানার ওসি তদন্ত সামিউল নিশ্চিত করেছেন যে, এই জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি আনা হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ধরনের নৃশংস অপরাধ সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ধরনের ঘটনা আমাদের সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে আরও প্রকটভাবে উপস্থাপন করে। শিশুদের প্রতি সকলের দায়িত্ব হলো তাদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা। এই নরপশুর রিফাতের মতো অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া আইন প্রয়োগ না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাস ঝুঁকির মুখে থাকবে।
নরসিংদী শিশু নির্যাতন কাণ্ডটি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে যথাযথভাবে তদন্ত ও বিচারের পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।