সাংবাদিক মাসুদ রানা বাবুল ঃ
নরসিংদী জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকের বিস্তার রোধ এবং চরাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে। নরসিংদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবাসহ মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার, সংঘর্ষ এবং ভাঙচুর ঠেকাতে বিশেষ মহড়া ও নিরাপত্তা কার্যক্রমও পরিচালিত হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামি রেজাউল করিম মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও ৩ কোটি টাকা অর্থদণ্ড এবং অপর একটি মামলায় চার মাসের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় ছিল। তিনি সদর উপজেলার শেখেরচর মোল্লা বাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
এদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাসাইল চক্ষু হাসপাতালের সামনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তানভীর ভূইয়া (৩২) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১ হাজার ৫৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি শিবপুর উপজেলার গাসিরদিয়া এলাকার বাসিন্দা।
জেলার চরাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদর উপজেলার আলোকবালি ইউনিয়নের মুরাদনগর, বাখরনগর, বীরগাঁও ও সাতপাড়া গ্রামে বিশেষ অভিযান ও মহড়া পরিচালনা করা হয়। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুকের নির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজীব শাহরীন এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসান। অভিযানে জেলা পুলিশ, ডিবি পুলিশ এবং র্যাবের সদস্যরা অংশ নেন।
অন্যদিকে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ ১৯ জন গ্রেফতার অভিযানের অংশ হিসেবে আরও চার মাদক কারবারিকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে মোট ১২৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
রায়পুরার হাঁটুভাঙা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ৫২ পিস ইয়াবাসহ নয়ন মিয়া (৪৫) ও জনি মিয়া (২২) গ্রেফতার হন। পশ্চিম কান্দাপাড়া এলাকা থেকে ৪২ পিস ইয়াবাসহ সজিব মিয়া (২৩) এবং বানিয়াচল এলাকা থেকে ৩৫ পিস ইয়াবাসহ গোলাপ মিয়া (৩৫) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। পুলিশের তথ্যমতে, গোলাপ মিয়ার বিরুদ্ধে আগে থেকেই সাতটি মামলা রয়েছে।
এছাড়া পলাশ থানা পুলিশ ১০ জুন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মাদক, নিয়মিত মামলা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারার আওতায় আরও ১৩ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং চরাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।