সাংবাদিক মোঃ হালিম খান:
শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় খামারিদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আধুনিক পদ্ধতিতে লাভজনক দুগ্ধ খামার গড়ে তুলতে “অধিক দুধ উৎপাদন, গাভী পালন ও লাভজনক খামার গঠন” শীর্ষক একদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে বুধবার (২০ মে ২০২৬) উপজেলার টালকি ইউনিয়নে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন এলাকার গবাদিপশু পালনকারী খামারিরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল খামারিদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গাভী পালন প্রশিক্ষণ প্রদান করা এবং দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করে খামারকে আরও লাভজনক করে তোলা। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী খামারিদের গাভীর খাদ্য ব্যবস্থাপনা, উন্নত প্রজনন পদ্ধতি, রোগ প্রতিরোধ, প্রাণির স্বাস্থ্যসেবা, খামারের পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক রেকর্ড সংরক্ষণ বিষয়ে ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক ধারণা দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে বিশেষভাবে আলোচনা করা হয় কীভাবে সুষম খাদ্য, উন্নত জাতের গাভী এবং আধুনিক কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। পাশাপাশি খামারের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, সময়মতো টিকা প্রদান এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নকলা, শেরপুরের ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন এন্টারপ্রাইজের ময়মনসিংহ অঞ্চলের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মোঃ আবুল হোসেন খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এরিয়া সেলস ম্যানেজার মোঃ সামিউল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গাভীর সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, উন্নত প্রজনন প্রযুক্তি ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা একটি খামারকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের গাভী পালন প্রশিক্ষণ খামারিদের বাস্তব অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী খামারিদের হাতে-কলমে বিভিন্ন বিষয় শেখানো হয়। বিশেষ করে রোগ নিয়ন্ত্রণ, সঠিক প্রজনন ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব খামার পরিচালনার আধুনিক কৌশল উপস্থাপন করা হয়। এতে খামারিরা বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পান।
অনুষ্ঠানে খামারিদের আগ্রহ ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারী সকল খামারিদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খামারিদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই দুগ্ধ খামার গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের খামারিরা আরও স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন এবং জাতীয় পর্যায়ে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে দুগ্ধ খামারের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। তাই খামারিদের আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খামারিরা কম খরচে বেশি লাভ অর্জন করতে পারবেন।