নওগাঁর ধামইরহাটে সাংবাদিকের ওপর হামলার একটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব বাজার এলাকায় অবস্থিত একটি ফিলিং স্টেশনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক এম এ মালেক, যিনি উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবং স্থানীয় দুইটি পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তিনি “ধামইরহাটে সাংবাদিকের ওপর হামলা” ঘটনার শিকার হন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ফিলিং স্টেশনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে তেল পাচার সংক্রান্ত অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয়দের ডাকে সাড়া দিয়ে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক এম এ মালেক। তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
এ সময় হঠাৎ করে ফিলিং স্টেশনের মালিকপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, আবু সুফিয়ান পান্নার নেতৃত্বে ৮-৯ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে। হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি মারে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে। পাশাপাশি তার সঙ্গে থাকা প্রায় ৪০ হাজার টাকার বেশি নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
হামলার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হলেও আশঙ্কামুক্ত।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ধামইরহাটে সাংবাদিকের ওপর হামলার এই ঘটনা স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাংবাদিকরা যদি নিরাপদে কাজ করতে না পারেন, তাহলে সমাজে সত্য তথ্য প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। তাই এ ধরনের ঘটনার দ্রুত বিচার এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।