এম ডি ফারুক মিয়া দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা এলাকায় অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। “দোয়ারাবাজারে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ” কার্যক্রমের আওতায় উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ১৪৩ জন প্রকৃত কৃষক এই সহায়তা পেয়েছেন।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। প্রতিটি পরিবারকে ৩ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং ১৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা” কার্যক্রম আগামী তিন মাস পর্যন্ত চলমান থাকবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন জাতীয় সংসদে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল খায়ের এবং মো. শওকত আলী।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে হাওরাঞ্চলের বোরো ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা আর্থিক সংকটে পড়েন। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের যৌথ যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। পর্যায়ক্রমে দোয়ারাবাজার উপজেলায় মোট ১ হাজার ৪০ জন কৃষকের মাঝে এই সহায়তা বিতরণ করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও অরুপ রতন সিংহ বলেন, সরকার সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম চালু রয়েছে। ভবিষ্যতেও দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
সহায়তা পেয়ে স্থানীয় কৃষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, দুর্যোগের সময়ে এই নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে সংসদে কৃষকদের দুর্ভোগ তুলে ধরায় স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় সরকার ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।