সাংবাদিক মোঃ ফয়সাল আহাম্মেদ মুন্না
সাংবাদিকতা, সমাজসেবা ও সংগঠন পরিচালনায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পেয়েছেন সাংবাদিক সাদিক হোসেন এপলু। তিনি দৈনিক ঘোষণা’র ২০২৬ সালের বর্ষসেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদক হিসেবে সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকতায় শ্রেষ্ঠত্ব এবং সমাজ উন্নয়নমূলক সংগঠক হিসেবেও তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন।
গত বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। দৈনিক ঘোষণা’র ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সংগঠক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের নাতি, সাবেক তথ্য সচিব ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ঘোষণা’র সম্পাদক ও প্রকাশক মো. সাহিদুর রহমান টেপা।
প্রধান অতিথি সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদের হাত থেকে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার গ্রহণ করেন সাদিক হোসেন এপলু। তাঁর দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, সমাজসেবা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
সাদিক হোসেন এপলু সাংবাদিকতার পাশাপাশি প্রতিবাদী কবি, শিক্ষানবিশ আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও সংগঠক হিসেবেও কাজ করছেন। বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, অনিয়ম, দুর্নীতি, বৈষম্য এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে তিনি কাজ করে আসছেন। তাঁর প্রতিবেদনে জনস্বার্থের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে বলে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।
বর্ষসেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদক হিসেবে সম্মাননা পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন সাদিক হোসেন এপলু। তিনি বলেন, এই অর্জন তাঁর একার নয়। পরিবার, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং যাঁরা সবসময় তাঁকে সাহস ও সহযোগিতা করেছেন, এই সম্মান তাঁদের সবার।
তিনি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সাদিক হোসেন এপলু বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল ও চ্যালেঞ্জিং পেশা। সমাজের অসঙ্গতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের সততা ও সাহসের সঙ্গে কাজ করতে হয়। সাধারণ মানুষের অধিকার এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করাও সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তিনি বলেন, এই সম্মাননা তাঁকে আরও উৎসাহিত করবে। ভবিষ্যতে তিনি আরও সততা, নিষ্ঠা, সাহস ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে চান। সত্য, ন্যায়, মানবিকতা এবং জনস্বার্থকে সামনে রেখে সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
সাংবাদিকতা পেশায় একটি পুরস্কার শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়। এটি একজন সাংবাদিকের কাজের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং সত্য তুলে ধরার জন্য সময় ও পরিশ্রম প্রয়োজন। তাই এই ধরনের সম্মাননা সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করে।
সাদিক হোসেন এপলুর এই অর্জনে বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সহকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা তাঁর ভবিষ্যৎ সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাফল্য কামনা করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন সাংবাদিকের কাজ শুধু সংবাদ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের সমস্যা তুলে ধরা, মানুষের কথা বলা এবং জনস্বার্থের বিষয় সামনে আনাও সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সাদিক হোসেন এপলুর এই স্বীকৃতি তাঁর পেশাগত জীবনে নতুন অনুপ্রেরণা তৈরি করবে।
সাদিক হোসেন এপলু বলেন, মানুষের আস্থা ধরে রাখতে সাংবাদিকদের সত্য ও নিরপেক্ষতার প্রতি অটুট থাকতে হবে। ভবিষ্যতেও তিনি জনস্বার্থের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চান। একই সঙ্গে মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দৈনিক ঘোষণা’র ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা ও সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়ার মাধ্যমে সাদিক হোসেন এপলুর সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।
এই সম্মাননা তাঁর জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার দায়িত্বও বাড়িয়েছে। সাংবাদিকতা, মানবিকতা ও সমাজকল্যাণের ক্ষেত্রে তাঁর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশা করেছেন তাঁর সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।