মুজাহিদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানায় ওসি পদে সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে, যা বর্তমানে “ত্রিশাল থানার ওসি বদলি” এবং “পুলিশ প্রশাসন সমালোচনা”—এই দুই কিওয়ার্ডকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পরিসরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, পূর্বে দায়িত্ব পালনকারী ওসি ফিরোজ হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে থানার সেবামূলক কার্যক্রমে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে স্থানীয়দের একাংশ দাবি করছে। সাধারণ মানুষ থানায় গিয়ে তুলনামূলকভাবে দ্রুত সেবা পাচ্ছিলেন এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও অগ্রগতি দেখা যাচ্ছিল বলে অনেকে মত দিয়েছেন। তবে সম্প্রতি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আবারও সাবেক ওসি মনসুর রহমানকে একই থানায় বদলি করা হলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের একটি অংশ এই বদলি সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা মনে করছেন, হঠাৎ এ ধরনের পরিবর্তন প্রশাসনিক ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকে এটিকে “ত্রিশাল থানার ওসি বদলি” ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করে স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণত এ ধরনের বদলি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ বলেই উল্লেখ করা হয়।
এদিকে থানার অভ্যন্তরীণ কিছু কর্মকর্তার দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে। এতে করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে “পুলিশ প্রশাসন সমালোচনা” আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সুশীল সমাজের একাংশ বলছেন, পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে হলে বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা এবং ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, জনসেবামূলক পুলিশের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে হলে জনগণের মতামত ও আস্থা বিবেচনায় রাখা জরুরি।
সব মিলিয়ে ত্রিশালের সাম্প্রতিক ওসি বদলি ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে প্রশাসনিক রুটিন পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করছেন। ফলে বিষয়টি বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসনিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।