ফয়সাল রহমান জনি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ডিপিএস প্রতারণা ও নিকাহ-তালাক জালিয়াতিকে কেন্দ্র করে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। বিয়ের মাত্র তিন দিনের মাথায় প্রতারণার মাধ্যমে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ভুয়া কাজী চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিয়ে ও তালাক সম্পাদনের বিষয়টিও প্রকাশ পেয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা চান মিয়ার মেয়ে চাম্পা খাতুনের সঙ্গে ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর কুদ্দুস মিয়ার বিয়ে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের তিন দিনের মধ্যেই স্বামী কুদ্দুস মিয়া ব্যাংকে ডিপিএস খোলার প্রলোভন দেখিয়ে স্ত্রীর কাছ থেকে একটি কাগজে স্বাক্ষর নেন। পরে জানা যায়, সেটি ছিল তালাকনামা।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, এটি একটি পরিকল্পিত প্রতারণা। স্বামী পক্ষের সহযোগিতায় সাজ্জাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি, যিনি সরকারি অনুমোদিত কাজী নন, ভাড়া করা রেজিস্ট্রি বই ব্যবহার করে তালাক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় চাম্পা খাতুন আদালতে মামলা দায়ের করলে স্বামী, তার বাবা, বৈধ কাজী মাওলানা আব্দুল হামিদ এবং দুই সাক্ষীকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে অভিযোগের মূল হোতা সাজ্জাদ হোসেন এখনো গ্রেফতার এড়াতে সক্ষম হয়েছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই ভুয়া কাজী চক্র নলডাঙ্গা এলাকায় অবৈধভাবে নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তারা “ভাড়া বই” ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে বিয়ে ও তালাক সম্পন্ন করত, যা নিকাহ রেজিস্ট্রার বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
ভুক্তভোগী চাম্পা খাতুন বলেন, “আমি জানতাম না যে আমি তালাকনামায় স্বাক্ষর করছি। আমাকে ডিপিএসের কথা বলে প্রতারণা করা হয়েছে।” তার পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির কারণেই এমন নিকাহ-তালাক জালিয়াতি চক্র গড়ে উঠেছে। দ্রুত মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।