ঠাকুরগাঁওয়ে টাঙ্গন নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া তৃতীয় শ্রেণীর স্কুল ছাত্র সারুপকে প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এলাকার টাঙ্গন নদীতে গোসল করতে নামে শিশু সারুপ। গোসলের সময় হঠাৎ সে পানির স্রোতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।
পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বুধবার সকাল থেকে টানা অভিযান চালিয়ে বিকেল নাগাদ নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রায় আট ঘণ্টা নদীতে ডুবুরি দল তল্লাশি চালিয়ে এই মরদেহ উদ্ধার করে।
ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর মোজাম্মেল হক জানান, মঙ্গলবার নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। বুধবার দীর্ঘ সময় ধরে ডুবুরি দল কাজ করে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত সারুপ (১২) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, টাঙ্গন নদীতে বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোত বেড়ে যায়, ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। তারা প্রশাসনের কাছে নদীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে স্থানীয় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের নদীতে গোসলের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।