সাংবাদিক রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের চাকরির বাজারের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করার লক্ষ্যে আয়োজিত হয়েছে “ঠাকুরগাঁও জব ফেয়ার ২০২৬”। মঙ্গলবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত এই জব ফেয়ারে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৪০০ চাকরিপ্রত্যাশী অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের মতে, এ আয়োজন স্থানীয় তরুণদের জন্য নতুন চাকরির সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জব ফেয়ারের উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মাহমুদ রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইএসডিও (ESDO)-এর প্রধান নির্বাহী পরিচালক মোঃ জামান। এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী এবং চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত। তরুণদের দক্ষতা ও যোগ্যতার সঙ্গে চাকরির বাজারের চাহিদার সমন্বয় ঘটাতে এমন আয়োজন অত্যন্ত কার্যকর। তারা বলেন, “ঠাকুরগাঁও জব ফেয়ার” শুধু একটি চাকরি মেলা নয়, বরং এটি তরুণদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচনের একটি প্ল্যাটফর্ম।
মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) গ্রহণ করে। পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থাও রাখা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পান এবং নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরতে সক্ষম হন।
চাকরিপ্রত্যাশীরা জানান, এক জায়গায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ পাওয়ায় তাদের সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হয়েছে। অনেকেই আশা প্রকাশ করেন, এই জব ফেয়ারের মাধ্যমে তারা কাঙ্ক্ষিত চাকরি পেতে সক্ষম হবেন। তারা ভবিষ্যতেও নিয়মিত এমন আয়োজন করার দাবি জানান।
আয়োজকরা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এবং তরুণদের বেকারত্ব কমাতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তাদের বিশ্বাস, “চাকরির সুযোগ” সৃষ্টিতে এ ধরনের জব ফেয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
জব ফেয়ার ঘিরে দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। চাকরিপ্রত্যাশীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, তরুণ সমাজ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের জন্য কতটা আগ্রহী। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।