রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা:
ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহিত করতে এবং বিদ্যালয়মুখী করতে বৃহৎ পরিসরে স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী উদ্যোগের আওতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জেলার ৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পাশাপাশি বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত।
শুক্রবার (১২ জুন) ঠাকুরগাঁও সফরকালে চীনের রাষ্ট্রদূত ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী। পরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয় এবং শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুল ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা একটি দেশের উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি। শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা উল্লেখ করেন, ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুল ব্যাগ বিতরণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং তাদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে আরও উৎসাহিত করবে।
বক্তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শিক্ষাখাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী উদ্যোগ শুধু শিক্ষা উপকরণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার একটি ইতিবাচক উদাহরণ। এ ধরনের সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শিক্ষার উন্নয়নে এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
স্কুল ব্যাগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেক শিক্ষার্থী জানান, নতুন ব্যাগ পেয়ে তারা খুবই খুশি। এটি তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে। অভিভাবকরাও এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি তাদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার, আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি সেই প্রচেষ্টারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।