ঠাকুরগাঁও জেলায় সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড় কৃষকদের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে। ২৫ এপ্রিল রাতে শুরু হওয়া প্রবল দমকা হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান, ভুট্টা এবং শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে পাকা ধান ও ভুট্টা মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় উৎপাদন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু এই ঝড়ে তাদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। ২৬ এপ্রিল দুপুরের দিকে আবারও ঝড়ো হাওয়া পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এখন তারা ঋণের চাপ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে গত ১২ ও ১৩ মার্চের ঝড়-বৃষ্টিতেও একই ধরনের ক্ষতি হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ও কৃষকরা কোনো উল্লেখযোগ্য সরকারি সহায়তা পাননি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো আবহাওয়ার পূর্বাভাস তাদের কাছে পৌঁছায় না। যদিও এখন প্রযুক্তির যুগ, তবুও মাঠপর্যায়ে এই সুবিধা সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। যদি আগাম সতর্কতা পাওয়া যেত, তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো।
এদিকে ঝড়ের কারণে অনেক জায়গায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
কৃষকরা দ্রুত সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা এবং পুনর্বাসন চান। তারা বলছেন, এখনই সহায়তা না পেলে ভবিষ্যতে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃষকদের ফসল ক্ষতি কমাতে উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থা ও দ্রুত সহায়তা জরুরি।