গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৮ মার্চ) রাত পৌনে ৮টার দিকে এই টঙ্গীতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীদের গুলির লক্ষ্য ছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান। তবে সৌভাগ্যবশত তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামরুজ্জামান টঙ্গীর একজন পরিচিত ব্যবসায়ী এবং তিনি ‘মায়ের দোয়া রিয়েল এস্টেট’ নামের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি তার অফিসে ছিলেন। ওই সময় কয়েকজন অজ্ঞাত যুবক অফিসের আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তারা আশপাশের দোকানদারদের কাছে ব্যবসায়ী কামরুজ্জামানের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইছিল।
একপর্যায়ে ওই যুবকরা অফিসের নিরাপত্তারক্ষী নান্টুকে ডেকে পাশের একটি দোকানের পেছনে নিয়ে যায় এবং “কামরুল কোথায়” বলে জানতে চায়। নিরাপত্তারক্ষী নান্টু বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে করে তাদের কাছে জানতে চান কেন তারা এভাবে খোঁজখবর নিচ্ছে। এ সময় পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্বৃত্তরা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে আশপাশের মানুষ ভীত হয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সন্ত্রাসীরা দ্রুত একটি নোহা মাইক্রোবাসে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান জানান, ঘটনার মাত্র দুই মিনিট আগে তিনি অফিসের সামনে অবস্থান করছিলেন। পরে তিনি নিজের গার্ডেনে প্রবেশ করার পরপরই গুলির শব্দ শুনতে পান। তার মতে, এই ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান হামলা পরিকল্পিত হতে পারে। তিনি দাবি করেন, তাকে লক্ষ্য করেই সন্ত্রাসীরা আগে থেকে অফিসের আশপাশে অবস্থান নিয়েছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় Gazipur Metropolitan Police-এর সদস্যরা। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে দুটি গুলির খোসা, একটি তাজা গুলি এবং একটি ব্যাগ উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে।
গুলির ঘটনা জানাজানি হলে আশপাশের এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। এতে এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ তৈরি হয়। স্থানীয়রা এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহিদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, টঙ্গী এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, টঙ্গী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।