ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত শিক্ষার্থীর নাম সাবিদুল ইসলাম সিয়াম (১৭)। তিনি আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী আজমপুর গ্রামের শাহনেওয়াজ মিয়ার ছেলে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে জাইমা রহমানকে কেন্দ্র করে আপত্তিকর পোস্ট ও মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে রোববার (২১ জুন) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার উত্তর জগৎসার এলাকায় তার খালার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের অপপ্রচার, গুজব বা আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়ানোর ক্ষেত্রে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান জানান, আটককৃতের ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, আটক হওয়ার আগে অভিযুক্ত কিশোর ফেসবুক লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ বলছে, সাইবার অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।