মোঃ মাহবুব হোসেন মেজর, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
জয়পুরহাট জেলার বিরল উপজেলায় বিজিবি’র (বর্ডার গার্ড) ২০ ব্যাটালিয়নের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে কষ্টিপাথরের দুটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করেছে। অভিযানে একজনকে হাতে নাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মূর্তির মোট ওজন প্রায় ২৫ কেজি ৬৭০ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা।
শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় জয়পুরহাট ২০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (সিও) মোহাম্মদ লতিফুল বারি সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি চৌকস বিজিবি দল বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের ধনগাঁও গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে মোঃ রাসেল ইসলাম নামের একজনের বাড়ি থেকে কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করা হয় এবং তাকে হাতে নাতে গ্রেফতার করা হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারি বলেন, “মোঃ রাসেল ইসলামের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি কষ্টিপাথরের তৈরি এবং অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি পরে আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করে আরও তথ্য দেন, যার ভিত্তিতে একই উপজেলার ফরকারাবাদ গ্রামে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় আরও একটি কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করা হয়।”
উদ্ধার হওয়া দুটি মূর্তির মোট ওজন প্রায় ২৫ কেজি ৬৭০ গ্রাম। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ধরনের কষ্টিপাথরের মূর্তি অতি মূল্যবান এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় প্রশাসন এবং বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, এই ধরনের মূর্তির চুরি বা অবৈধ লেনদেন সম্প্রতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকে প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ অবৈধভাবে বাজারজাত করার চেষ্টা করে। তাই বিজিবি’র তৎপর অভিযান এই ধরনের অপরাধ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অভিযানে গ্রেফতার মোঃ রাসেল ইসলাম বিজিবি’কে জানিয়েছে, তিনি উদ্ধারকৃত মূর্তিগুলি অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখছিলেন। তবে তার সঙ্গে অন্য কোন চক্রের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা যাচাই করার জন্য বিজিবি তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয়রা এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন এবং বলেন, “বিজিবি’র এই অভিযান প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের সুরক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এক নজির স্থাপন করেছে। এই ধরনের তৎপরতা দেশের প্রত্নধন রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারি আরও বলেন, “আমরা সর্বদা সীমানার পারাপারের মাধ্যমে দেশের প্রত্নসম্পদ চুরি হওয়া প্রতিরোধে সতর্ক। এই অভিযান বিজিবি’র দ্রুত ও চৌকস পদক্ষেপের উদাহরণ। আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করছি যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নসম্পদ রক্ষায় বিজিবি’র পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।”
উদ্ধার হওয়া মূর্তির নিরাপদ সংরক্ষণ এবং আইনগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বিজিবি প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদফতরও যুক্ত হয়েছে। তারা বলেছেন, উদ্ধারকৃত মূর্তিগুলির ইতিহাস ও নকশা যাচাই করে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হবে।
বিজিবি’র এই অভিযানের মাধ্যমে প্রত্নসম্পদ পাচার ও অবৈধ লেনদেন রোধে শক্ত বার্তা দেওয়া হলো। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ রক্ষায় বিজিবি’র এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত মোঃ রাসেল ইসলামকে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় নিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তার সঙ্গে যদি অন্য কোনও চক্র বা অবৈধ লেনদেনের যোগসূত্র পাওয়া যায়, তবে তা অনুসন্ধান করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।
জয়পুরহাটের বিরল উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় এই ঘটনা সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। জনগণ এখন আরও সতর্ক হয়ে এমন চুরি বা অবৈধ লেনদেনে জড়িত কাউকে লক্ষ্য রাখছে। এটি দেশের প্রত্নসম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।
এই অভিযানের ফলে বিজিবি’র কার্যকারিতা, সতর্কতা এবং প্রত্নসম্পদ রক্ষায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন ধরনের অভিযান আরও তৎপর এবং নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে, যাতে দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ নিরাপদ থাকে।