রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি:-মোঃ কামরুল ইসলাম
রাঙামাটির দুর্গম ছোটহরিণা এলাকায় অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ছোটহরিণা ব্যাটালিয়ন (১২ বিজিবি)-এর উদ্যোগে ‘সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ১৪টি পরিবার ও একটি হেফজখানা-এতিমখানায় মোট ৭০ হাজার ৩০০ টাকা নগদ অনুদানসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ আগস্ট) ছোটহরিণার হরিণা জোন সদরে এ মানবিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হরিণা জোনের জোন কমান্ডার ও ছোটহরিণা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার্স।
অনুষ্ঠানে ভূষণছড়া ইউনিয়নের ফারুক-ই-আযম (রাঃ) হেফজখানা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসহায় একটি পরিবারের বসতবাড়ি মেরামতের জন্য ঢেউটিন, তিনটি পরিবারকে নগদ অর্থ, দরিদ্র পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় এবং সন্তানদের লেখাপড়ার খরচের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
এছাড়া জীবিকা নির্বাহে সহায়তার উদ্দেশ্যে দুটি স্ট্যান্ডসহ সেলাই মেশিন এবং একটি পরিবারকে সৌরবিদ্যুতের সুবিধা দিতে সোলার প্যানেল দেওয়া হয়েছে। এসব সহায়তার মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, এ কার্যক্রমের আওতায় মোট ১৪টি পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি বাঙালি পরিবার এবং ৩টি উপজাতি পরিবার রয়েছে। পাশাপাশি একটি হেফজখানা-এতিমখানাকেও সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে নগদ অনুদান হিসেবে ৭০ হাজার ৩০০ টাকা বিতরণ করা হয়।
জোন কমান্ডার বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করাকেও বিজিবি নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে। ছোটহরিণার মতো দুর্গম ও নদীবেষ্টিত পাহাড়ি এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে নিয়মিতভাবে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে হরিণা জোন।
তিনি আরও বলেন, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ছোটহরিণা ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়রা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী অনেক পরিবার নানা ধরনের আর্থিক ও সামাজিক সমস্যার মধ্যে জীবনযাপন করেন। তাদের জন্য চিকিৎসা, শিক্ষা, বসতবাড়ি মেরামত কিংবা আয়মূলক উপকরণ পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি বিজিবির মানবিক সহায়তা স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলেও তারা জানান।
স্থানীয়দের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর এমন উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবিকা সহায়তার মতো কার্যক্রম দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদে উপকারী হতে পারে।
ছোটহরিণা অনুদান বিতরণ কর্মসূচির মাধ্যমে অসহায় পরিবার ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোয় স্থানীয়দের মধ্যেও সন্তোষ দেখা গেছে। বিজিবির এই মানবিক উদ্যোগ সীমান্ত এলাকার মানুষের সঙ্গে বাহিনীর সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।