কায়সার আশ্রাফী, চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম কাস্টমসে আগুন লাগার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কাস্টমসের অকশন (নিলাম) শেডে শনিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বন্দর ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, অকশন শেডে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সময়মতো অভিযান পরিচালনার ফলে আগুন আশপাশের অন্যান্য স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। তবে আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, কাস্টমসের অকশন শেডে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আগুনের উৎস এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।
এদিকে চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, চট্টগ্রাম কাস্টমসে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণের জন্য ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে যুগ্ম কমিশনার সৈয়দ মোকাদ্দেস হোসনকে এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী কমিশনার মো. রাসেল আহমেদ, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. তানবীন ইসলাম, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একজন প্রতিনিধি এবং চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের মনোনীত একজন প্রতিনিধি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে আগুন লাগার কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।