চট্টগ্রামে আবারও বড় ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে র্যাব। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে এবং পাঁচজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এটি সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে ধরা পড়া উল্লেখযোগ্য ইয়াবার চালানগুলোর একটি।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) জানায়, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানার ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে এক লাখ ৮২ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবাসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
দুপুরে র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চট্টগ্রামে ইয়াবা উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে এই অপারেশন পরিচালনা করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন— মো. ইমরান (২১), মো. আনিস (২৯), মো. মনির হোসেন (৪৫), মো. আলী (৪৭) ও মো. রুবেল (২৭)। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে, একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র মিয়ানমার থেকে সমুদ্রপথে ইয়াবার বড় চালান চট্টগ্রাম মহানগরীর দিকে নিয়ে আসছে। এই তথ্য পাওয়ার পরপরই র্যাবের মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়।
পরবর্তীতে র্যাব-৭ এর একটি বিশেষ দল সন্দেহভাজন একটি বাল্কহেডকে অনুসরণ করতে থাকে। বাল্কহেডটি সমুদ্রপথে চট্টগ্রামের দিকে আসছিল। নজরদারির একপর্যায়ে বাল্কহেডটি নগরের পতেঙ্গা থানার ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় এসে নোঙর করে।
এ সময় বাল্কহেড থেকে কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। র্যাব সদস্যরা তৎক্ষণাৎ অভিযান চালিয়ে কর্ণফুলী নদীর পাড় থেকে পাঁচজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটকের পর বাল্কহেডটিতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় ইঞ্জিন রুমে রাখা দুটি বড় প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর ইয়াবার চালান পাওয়া যায়। ড্রামগুলো খুলে গণনা করে দেখা যায়, সেখানে মোট ১ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে।
র্যাব জানায়, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এত বড় পরিমাণ মাদক উদ্ধার হওয়ায় এটিকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাব কর্মকর্তারা বলেন, মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচারের ঘটনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী মাদক চক্র সমুদ্র ও সীমান্তপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে ইয়াবা প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব চক্রকে দমনের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা মাদক পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এখানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি এই মাদক চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, মাদক নির্মূলে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ মাদক সংক্রান্ত কোনো তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
র্যাব জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযান আরও জোরদার করা হবে।