চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে আবারও ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ মানুষ। ঢাকার আলোচিত শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং রাতভর পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
শুক্রবার (২২ মে) ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা। তিনি জানান, মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মনির নামের এক যুবককে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২১ মে) নগরের চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরে বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হলে পরিবারের সদস্যরা শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে সন্দেহ করেন যে সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এরপর খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত মনির স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি স্থানীয়দের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই তথ্যের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা চেয়ারম্যানঘাটার ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা ভবনের কলাপসিবল গেট ভাঙারও চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায় এবং অভিযুক্তকে আটক করে।
তবে অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে বাধা দেয় এবং অভিযুক্তকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নেওয়া হয়। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সচেতন নাগরিকরা শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাকলিয়া শিশু নির্যাতনের ঘটনায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।