পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন নগরবাসী। অগ্রিম টিকিটধারী যাত্রীদের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে ঈদযাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। শুক্রবার ভোর থেকেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ভিড় ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।
ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার জন্য ট্রেন যাত্রা বেছে নিয়েছেন অনেক যাত্রী। ফলে ভোর থেকেই স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নারী, শিশু, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ট্রেন ধরতে স্টেশনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে পর্যটন এক্সপ্রেস ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে এবারের ঈদযাত্রা শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে একের পর এক ট্রেন ছেড়ে যায়।
ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে সৈকত এক্সপ্রেস কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সকাল ৬টা ও ৭টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় চট্টলা এক্সপ্রেস ও সুবর্ণ এক্সপ্রেস। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশ্যে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস যাত্রা শুরু করে। এরপর সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে বিজয় এক্সপ্রেস এবং সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ছেড়ে যায়।
এছাড়া ঢাকা থেকে আগত পর্যটক এক্সপ্রেস সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে আবার যাত্রা শুরু করে। এতে বোঝা যাচ্ছে ঈদকে সামনে রেখে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক যাত্রী সময়ের আগেই এসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, আবার কেউ একা বা বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন। ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।
ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেসের যাত্রী ও এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাইমন ইসলাম বলেন, “পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ঈদের ছুটি থাকায় আগেই বাড়ি চলে যাচ্ছি। এতে পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটানো যাবে এবং ঈদের পর আবার দ্রুত ক্যাম্পাসে ফিরতে পারব।”
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, এবারের ঈদে যাত্রীদের সুবিধার্থে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পূর্বাঞ্চলের ১৬টি ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৮ হাজারের বেশি অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। এতে যাত্রীরা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে পারছেন।
ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং তিন স্তরের টিকিট যাচাইয়ের পর যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারছেন। এতে টিকিটবিহীন যাত্রী প্রবেশ এবং বিশৃঙ্খলা কমানো সম্ভব হচ্ছে।
এদিকে ঈদ শেষে ফিরতি যাত্রার জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুক্রবার থেকেই শুরু হয়েছে। আজ বিক্রি করা হচ্ছে আগামী ২৩ মার্চের ফিরতি যাত্রার টিকিট। যাত্রীদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে শতভাগ টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করছে।
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৩ মার্চের ফিরতি টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১৩ মার্চ, ২৪ মার্চের টিকিট ১৪ মার্চ, ২৫ মার্চের টিকিট ১৫ মার্চ, ২৬ মার্চের টিকিট ১৬ মার্চ, ২৭ মার্চের টিকিট ১৭ মার্চ, ২৮ মার্চের টিকিট ১৮ মার্চ এবং ২৯ মার্চের টিকিট বিক্রি হবে ১৯ মার্চ।
এছাড়া চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রির বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
যাত্রীদের অনুরোধে নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট যাত্রার আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যাবে। একজন যাত্রী একবারে সর্বোচ্চ চারটি আসনের টিকিট কিনতে পারবেন। তবে অগ্রিম বিক্রি করা কোনো টিকিট ফেরতযোগ্য নয় বলে জানানো হয়েছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা আশা করছেন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবারের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে।