ফয়সাল রহমান জনি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের ছোট জামালপুর গ্রামে আব্দুল মজিদ খাজা মিয়ার পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুকুরের মালিক ও তার পরিবারের সদস্যরা।
গোবিন্দগঞ্জে মাছ নিধন নিয়ে স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকালে পুকুরের পাড়ে গিয়ে পুকুরের পানিতে অসংখ্য মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের নজরে আসে। পুকুরের মালিকের দাবি, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বিঘা আয়তনের ওই পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছিল। সেখানে রুই, মৃগেল, বাটা, তেলাপিয়া ও সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ ছিল। পুকুরটিতে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ মণ মাছ ছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আব্দুল মজিদ ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, পুকুরের মাছগুলো নিয়মিত পরিচর্যা করা হতো। মাছ বিক্রির মাধ্যমে পরিবারের আয় করার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু রাতের কোনো একসময় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হলে সকালে এসে তারা দেখতে পান অধিকাংশ মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠেছে। এতে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় তাদের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছিল। পূর্বের ঘটনার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার মিল রয়েছে বলেও তারা জানান। প্রতিবেশীর সঙ্গে মামলা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কাউকে দায়ী করা যাচ্ছে না।
আব্দুল মজিদ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাছ চাষিদের মতে, পুকুরে বিষ প্রয়োগের মতো ঘটনা শুধু একজন চাষির আর্থিক ক্ষতি করে না, বরং এলাকায় মাছ চাষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে। তাই ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।