গাজীপুর প্রতিনিধ:
গাজীপুরের বাসন থানায় দায়ের হওয়া একটি গাজীপুর ধর্ষণ মামলা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সিয়াম এখনও গ্রেপ্তারের বাইরে থাকায় তাকে আটকের লক্ষ্যে পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসামিকে আইনের আওতায় আনতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বাসন থানায় ধর্ষণের মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই আসামির বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরপর একাধিকবার তার সম্ভাব্য অবস্থান ও বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে সিয়াম গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।
সূত্রের দাবি, অভিযানের সময় কিছু প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে পুলিশের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে আরও অভিযোগ রয়েছে, আসামির এক আত্মীয়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ হওয়ায় বিভিন্ন সাংবাদিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রভাব ব্যবহার করে মামলার অগ্রগতি ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ বলছে, মামলার তদন্ত নিরপেক্ষভাবে এগিয়ে চলছে। তদন্তে যেসব তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেগুলোর ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে একদিকে ভুক্তভোগী ন্যায়বিচারের সুযোগ পান, অন্যদিকে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হয়।
পুলিশ সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও কামনা করেছে। আসামির অবস্থান সম্পর্কে কোনো ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য তথ্য জানলে নিকটস্থ থানায় অথবা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোরও অনুরোধ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।