গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর জেলা খাদ্য অধিদপ্তর কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে অফিস সহকারী মোঃ আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন ফাইল অনুমোদন ও দাপ্তরিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অর্থ দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা প্রয়োজন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে ফাইলের কাজ শেষ করা হয় না। বরং বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। তাদের দাবি, অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হলে একই ধরনের ফাইল দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজীপুর খাদ্য অধিদপ্তর কার্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের সেবা নিতে আসা ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, ফাইল অনুমোদনের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা চাওয়া হয়। বিশেষ করে হাজার টাকার নোটের মাধ্যমে অর্থ দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে আরও জানা যায়, অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাদের ভাষ্য, সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার হলে সাধারণ মানুষ অনেক সময় অভিযোগ করতেও ভয় পান। ফলে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তা যথাযথভাবে কর্তৃপক্ষের নজরে আসে না।
অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো ফাইলের কাগজপত্রে প্রকৃত ত্রুটি থাকলে তা নিয়ম অনুযায়ী সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু ঘুষ না দেওয়ার কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে ফাইল আটকে রাখা হলে সেটি সরকারি সেবা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।
অভিযুক্ত আসাদ মিয়ার বাড়ি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার আমরাই এলাকায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অফিসে তার প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। তবে এসব বক্তব্যও যাচাই করা প্রয়োজন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য প্রকাশ করা হলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা উচিত।
আসাদ মিয়ার ঘুষের অভিযোগ নিয়ে সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির সুনাম রক্ষার জন্য বিষয়টি স্পষ্ট করারও প্রয়োজন রয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে গিয়ে কোনো নাগরিক যেন অবৈধ অর্থ দিতে বাধ্য না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ফাইল অনুমোদন, লাইসেন্স, কাগজপত্র যাচাই কিংবা অন্যান্য দাপ্তরিক কাজে নির্ধারিত সরকারি ফি থাকলে সেটি স্পষ্টভাবে জানানো এবং রসিদের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করা উচিত।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে।
সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হলে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা বাড়বে। তাই গাজীপুর খাদ্য অধিদপ্তর কার্যালয়ে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ অসত্য হলে সেটিও পরিষ্কারভাবে জানানো জরুরি।