গাজীপুরে অবৈধ মাটি কাটার ব্যবসা রমরমা চলছে। বিশেষ করে বাসন, কোনাবাড়ী, সালনা ও মির্জাপুর এলাকায় ভূমি অফিসের আওতাধীন জমি থেকে রাতে দিনে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি হচ্ছে। এ ঘটনা কয়েক বছর ধরে চলছে এবং স্থানীয় কৃষি জমি ও পরিবেশের ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সরজমিনে দেখা যায়, রাতের আঁধারে এক্সকাভেটর দিয়ে ৪০ থেকে ৫০ ফুট গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এর ফলে জমির উর্বরতা হারাচ্ছে, ফসল উৎপাদন কমছে এবং পাশের জমি ভেঙে পড়ছে। স্থানীয় কৃষকরা জানাচ্ছেন, এভাবে মাটি কাটতে থাকলে এলাকার কৃষি জমি পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।
মাটি ব্যবসায়ীরা শুধু কৃষি জমি নয়, খাসজমি, খাল ও নদ-নদীর তীরের মাটিও কেটে নিচ্ছে। মাটি কাটার ব্যবসায়ীরা প্রশাসন, এসিল্যান্ড, থানা ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে এ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। একজন মাটি ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, “আমরা সাংবাদিক এবং প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মাটি বিক্রি করি। যারা মাটি বিক্রি করছেন, তারা জানে এবং সম্মত। এই মাটি ইটভাটার জন্য খুবই উপযোগী।”
মাটি বিক্রিতে ব্যবসায়ীরা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে নিজের প্রভাব বাড়াচ্ছে। প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা মূল্যের মাটি বিক্রি হচ্ছে। বাসনের রিপন মিয়া, কোনাবাড়ীর জিকু, মির্জাপুরের ওবায়দুলসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী পুরো গাজীপুর জুড়ে অবৈধভাবে মাটি চুরির সাথে যুক্ত।
স্থানীয় কৃষক আবুল কাশেম বলেন, “আমাদের আবাদি জমি রক্ষা করতে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে। নাহলে কৃষি জমি হারিয়ে যাবে এবং আমরা ফসল উৎপাদন করতে পারব না।” গাজীপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ফসলি জমির ১০-১২ ইঞ্চি উপরের মাটি কাটা হলে জমির জৈব উপাদান চলে যায় এবং এটি জমির স্থায়ী ক্ষতি সৃষ্টি করে।
ইটভাটা স্থাপন ও নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, কৃষি জমি বা পাহাড়ি মাটি কেটে ইট প্রস্তুতের জন্য ব্যবহার করা বেআইনি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মঈন খান এলিস জানান, রাতের আঁধারে মাটি কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং শীঘ্রই আইনানুগভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
কৃষি জমি রক্ষা এবং পরিবেশের ক্ষতি রোধ করার জন্য প্রশাসনের তৎপরতা অত্যন্ত জরুরি। মাটি কাটার এ মহোৎসব বন্ধ না করলে গাজীপুরের কৃষি জমি, নদ-নদী ও পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে ভয়ঙ্কর ক্ষতির মুখে পড়বে।
গাজীপুরে অবৈধ মাটি কাটার সমস্যা শুধুমাত্র কৃষি ক্ষতির সাথে সীমাবদ্ধ নয়, এটি রাস্তাঘাট, নদী ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। স্থানীয়রা আশা করছেন প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে।