ফয়সাল রহমান জনি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধায় ঘোড়া জবাই ও ঘোড়ার মাংস পাচার সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মোংলা বন্দর এলাকায় একটি চাতালে ঘোড়া জবাই করে মাংস পাচারের চেষ্টার অভিযোগে ৭ জনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোংলা বন্দরের একটি চাতালে কয়েকটি ঘোড়া জবাই করে সেগুলোর মাংস বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের প্রস্তুতি চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের সূত্র ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজনকে আটক করেন। পরে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত সেখানে উপস্থিত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তবে এবার ঘোড়ার মাংস পাচার সংক্রান্ত অভিযোগ সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা জরুরি।
খবর পেয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের কার্যক্রম শুরু করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি গাইবান্ধায় ঘোড়া জবাই এবং প্রতারণামূলকভাবে মাংস বাজারজাত করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯, নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য আইনের আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এসব আইনে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ বা বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলা হবে না। সব তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, প্রশাসন এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছে। জনগণের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্পষ্ট হবে।