মাসুদ রানা বাবুল, নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর পলাশে শিল্পকারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্যে দূষিত হয়ে পড়েছে একসময়ের প্রমত্তা শীতলক্ষ্যা নদী। গত ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করে নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে যাওয়ায় ভাসমান খাঁচায় চাষ করা বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যায়। এতে জাতীয় পদকপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা হাফিজুর রহমান সোহরাবের প্রায় ৫০ টন মাছ এক রাতেই মরে ভেসে ওঠে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি টাকা বলে দাবি করেছেন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত সোহরাব জানান, তার ২৫০টি ভাসমান খাঁচায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছিল। হঠাৎ করেই নদীর পানির রঙ কালচে হয়ে যায় এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই মাছগুলো মরে পানির ওপর ভেসে ওঠে। তিনি অভিযোগ করেন, “এটি স্বাভাবিক ঘটনা নয়। পরিকল্পিতভাবে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণেই এমন সর্বনাশ হয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে আশপাশের কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদীতে ছেড়ে দেয়। এতে নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ে এবং শুধু খাঁচার মাছই নয়, প্রাকৃতিক মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। এলাকাবাসীর দাবি—কিছু বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইটিপি (Effluent Treatment Plant) ব্যবহার না করে বাইপাস লাইনের মাধ্যমে বর্জ্য নদীতে ফেলছে।
ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তা পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের নরসিংদী কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বর্তমানে নদীর পানিতে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, যা আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিরা। তারা দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে শীতলক্ষ্যা নদীর পরিবেশগত বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।