মোঃ ফরিদ হোসেন, গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। জনস্বার্থে পরিচালিত এই অভিযানে ইভটিজিং ও অবৈধ মাটি কাটার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে একজনকে কারাদণ্ড এবং দুইজনকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) উপজেলার চুপাইর, জামালপুর, পিপুলিয়া ও দারকাভাংগা (নাগরী) এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ স্থানীয় জনগণের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলাকালে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৫০৯ ধারায় ইভটিজিংয়ের অভিযোগে নাজমুল আলম (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি চুপাইর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে উত্যক্ত করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। প্রশাসন জানিয়েছে, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া একই অভিযানে অবৈধ মাটি কাটায় জরিমানা হিসেবে দুইটি পৃথক মামলায় মোট ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পিপুলিয়া এলাকার মোঃ আতিক (৪৮) এবং দারকাভাংগা এলাকার মোঃ মাহবুবুর রহমান (৪৮) কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা প্রদান করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় এই জরিমানা করা হয়েছে। কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করে। তাই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযানে রাষ্ট্র পক্ষে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বেঞ্চ সহকারী হিসেবে ছিলেন মাহবুবুল ইসলাম। অভিযান চলাকালে স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইভটিজিং ও অবৈধ মাটি কাটার মতো সমস্যা ছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই পদক্ষেপে তারা স্বস্তি অনুভব করছেন। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধ কমে আসবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে জনগণকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত মনিটরিং এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ইভটিজিং ও অবৈধ মাটি কাটার মতো অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ সামাজিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।