শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে তারা কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভ চলাকালে কলেজ ক্যাম্পাসের কয়েকটি স্থানে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সময় কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তবে এসব শব্দের উৎস কী এবং ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। এসব অভিযোগের কারণে তারা কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করছেন।
শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি পালনের বিষয় নিয়েও কয়েকজন শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে কলেজ প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও প্রত্যাশিত সমাধান হয়নি বলে শিক্ষার্থীদের দাবি।
কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক বাইজিদ আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো দীর্ঘদিনের। তাদের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কলেজ প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আহাম্মদ উল্লাহ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে মাঠে অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। তবে কলেজ ভবনের মিলনায়তনে জুলাই-আগস্টের সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলো যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কলেজ ক্যাম্পাসে যান। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য বলা হয়।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এতে কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। কলেজ প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।