গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আলোচিত অপরাধী আকাশ ওরফে ‘পিচ্চি আকাশ’-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কালিয়াকৈরে পিচ্চি আকাশ গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা বেশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে কালিয়াকৈর থানার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে জামালপুর সদর উপজেলার কামালখান ইউনিয়নের তিতপল্লা এলাকার একটি তিনতলা ভবন থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) তাকে আদালতের মাধ্যমে গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া আকাশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১৮টি মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ও তার সহযোগীরা মোটরসাইকেলে বিভিন্ন শিল্পকারখানায় গিয়ে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতেন। এ কারণে অনেক ভুক্তভোগী ভয়ে থানায় অভিযোগ করতেও সাহস পেতেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আকাশ হরতকীতলা এলাকায় গ্রামীণ ইন্ডাস্ট্রিজের বিপরীতে জঙ্গলের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র লুকিয়ে রাখার তথ্য দেন। পরে তার দেখানো স্থান থেকে পুলিশ তিনটি বড় হাসুয়া, একটি বড় ছেনি, একটি চাপাতি, একটি কাঠের লাঠি এবং একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করে জব্দ করে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একই অভিযানে আকাশের সহযোগী নাদিম (২২), সুমন হোসেন (২২), লিমন হোসেন (২৪), বাবু আলী (৩২) ও নাইবুল ইসলাম (৪৫)-কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা কালিয়াকৈরের একটি হোটেলে ডাকাতির প্রস্তুতির ঘটনায় জড়িত। তাদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন মামলার আরও কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, কালিয়াকৈর থানার বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।