শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর(গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় শিল্পাঞ্চলের গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় উপজেলার নিশ্চিন্তপুর, সফিপুর, মৌচাক ও কালিয়াকৈর সদরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। এতে পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন খাতের মালিকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে হাজারো শ্রমিকের চাকরি নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নিশ্চিন্তপুর এলাকার লিবাস টেক্সটাইল, নরু গ্রুপসহ কয়েকটি বড় কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাসের চাপ না থাকায় সুতা, ডাইং ও ফিনিশিং বিভাগের অনেক মেশিন বন্ধ রয়েছে। ফলে এসব কারখানায় উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে।
গ্যাসের বিকল্প হিসেবে অনেক কারখানা ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে। তবে এতে উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। একজন কারখানা মালিক জানান, স্বাভাবিক সময়ে কারখানা পরিচালনায় যে পরিমাণ ব্যয় হতো, বর্তমানে শুধু জ্বালানি বাবদই তার বড় অংশ খরচ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ডিজেল ব্যবহার করতে হচ্ছে। গত কয়েক মাসে শুধু জ্বালানি খাতেই কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো। বিশেষ করে ডাইং ইউনিটে গ্যাসের প্রয়োজন বেশি হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন মালিকরা। দীর্ঘ সময় ডাইং ইউনিট বন্ধ থাকলে প্রক্রিয়াজাত কাপড় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
কারখানার একজন শ্রমিক বলেন, গ্যাস না থাকায় কাজের পরিমাণ কমে গেছে। উৎপাদন এভাবে চলতে থাকলে কারখানা কর্তৃপক্ষ বেতন ও অন্যান্য খরচ কীভাবে সামাল দেবে, তা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
শ্রমিকদের মনোবল ধরে রাখতে কিছু কারখানায় কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে দুপুরের খাবারের আয়োজন করেছে। তবে উৎপাদন স্বাভাবিক না হওয়ায় চাকরি হারানোর আশঙ্কা কাটছে না শ্রমিকদের।
কারখানা মালিকদের আশঙ্কা, গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিদেশি ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এতে নতুন ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান ক্রয়াদেশ বাতিলের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও পুরো শিল্পাঞ্চলের অর্থনীতিতে।
তিতাসের গাজীপুর শাখার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তারা যে পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন, তা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুবই কম।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, গ্যাস সংকটের কারণে কালিয়াকৈরের বিভিন্ন কারখানার উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক কারখানা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। পাশাপাশি শিল্পকারখানার জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে কালিয়াকৈরের শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন আরও কমে গিয়ে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তারিখ: ২১ আগস্ট ২০২৬