মোঃ মুজাহিদুল ইসলামঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা এলাকায় দিন দিন বেড়ে চলেছে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য। বিশেষ করে কালিয়াকৈর কিশোর গ্যাং সদস্যদের তৎপরতায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈর পৌরসভার কালামপুর রেল ক্রসিং ও মাটিকাটা রেল ক্রসিং এলাকা বর্তমানে অপরাধীদের অন্যতম কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায়ই ঘটে কালিয়াকৈরে চুরি ছিনতাই, ডাকাতি এবং মাদক ব্যবসার ঘটনা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব অপরাধের নেপথ্যে রয়েছে কিশোর গ্যাং লিডার সাকিব হোসেন ও তার সহযোগী মমিন।
জানা গেছে, কয়েকদিন আগে কালামপুর এলাকায় ডাকাতির চেষ্টা করতে গেলে এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়েন কিশোর গ্যাং লিডার সাকিব হোসেন। তবে তার সহযোগী আরেক কিশোর গ্যাং লিডার মমিন এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, সাকিব হোসেন কালিয়াকৈর থানাধীন কারল সুরিচালা পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ ইউনুস মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কালামপুর রেল ক্রসিং ও মাটিকাটা রেল ক্রসিং মোড় এলাকায় ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকেও চাঁদাবাজি করা হয়। সাকিবের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও পুলিশি ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে ওই এলাকার প্রায় দুই শতাধিক হকারের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, রাত হলেই কালামপুর রেল ক্রসিং থেকে মাটিকাটা রেল ক্রসিং পর্যন্ত সড়কটি ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের দখলে চলে যায়। পথচারীদের ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মাঝে মধ্যে পুলিশ টহল দিলেও অপরাধীরা সুযোগ বুঝে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।
কালামপুর ও মাটিকাটা এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, রমজান মাস শুরু হওয়ার পর থেকেই সাকিব ও মমিনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন কিশোর ও যুবক রাতে বিভিন্ন স্থানে আড্ডা দেয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও অপরাধ পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য নিয়মিত মাসোহারা নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে থানায় একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে মন্ডলপাড়া এলাকাতেও চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, সেখানে পিচ্চি রাকিব নামে এক যুবকের নেতৃত্বে একটি ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। প্রায় প্রতিদিন রাতেই মন্ডলপাড়ায় চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মন্ডলপাড়া থেকে ওয়ালটন যাওয়ার সড়কেও দিনের বেলায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এসব ছিনতাইয়ের নেতৃত্বে রয়েছে রাকিব। তাকে একাধিকবার পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও জামিনে বের হয়ে আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই এলাকায় কয়েক লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিকের বসবাস। শ্রমিকদের অভিযোগ, রাতে কারখানা থেকে বাসায় ফেরার পথে কালামপুর ও মাটিকাটা রেল ক্রসিং এলাকায় প্রায়ই ছিনতাইয়ের শিকার হতে হচ্ছে। অনেক সময় সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় অবস্থায় বাড়ি ফিরতে হয় তাদের।
এলাকাবাসীর মতে, বর্তমানে কালিয়াকৈর পৌরসভার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মাদক ব্যবসাও এসব কিশোরদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে কিশোরদের মধ্যে মাদকাসক্তি বাড়ছে এবং মাদকের টাকার জন্য তারা চুরি ও ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে অপরাধীদের তৎপরতা আরও বেড়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। যেখানেই অপরাধের ঘটনা ঘটছে সেখানেই পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।