ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী বাজার সংলগ্ন পুরোনো সেতুটি এখন স্থানীয়দের জন্য চরম আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেতুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পারাপার করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন যুগ আগে ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর আর কোনো বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। সময়ের ব্যবধানে সেতুর বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে বর্তমানে এটি একটি বিপজ্জনক কাঠামোয় পরিণত হয়েছে। রেলিংয়ের অধিকাংশ অংশ ভেঙে গেছে, কোথাও ঝুলে আছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
বাজার সংলগ্ন অংশে নিরাপত্তার জন্য বাঁশ ও ডালপালা দিয়ে অস্থায়ী রেলিং তৈরি করা হলেও তা যথেষ্ট নয়। সেতুর প্লাস্টার খসে পড়ায় ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে এবং অনেক রড মরিচা ধরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। মাঝের অংশে কয়েকটি পাটাতন ভেঙে নিচে পড়ে যাওয়ায় সেখানে কাঠ বসিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, কাগদী বাজার সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতিদিন ভ্যান, মোটরসাইকেল ও সাধারণ মানুষ আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন। একাধিক যানবাহন একসঙ্গে চলতে না পারায় প্রায়ই যানজট ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। সেতুটি এতটাই সংকীর্ণ যে একটি ভ্যান পার হলে অন্য ভ্যানকে অপেক্ষা করতে হয়।
অন্যদিকে, সেতুর মাঝের পিলার দেবে যাওয়ায় সেতুতে ঢেউয়ের মতো উঁচু-নিচু সৃষ্টি হয়েছে, যা ছোট-বড় দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্যরা জানান, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। সালথা ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং মৃত্যুঝুঁকির প্রতীক হয়ে উঠেছে।