জামাল উদ্দীন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফ ও রামু এলাকায় পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালিত এসব অভিযানে মোট ৫ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১১ জুন ভোরে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় দুটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম অভিযানে বটতলী গ্রামের মিজানের ঘের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ বস্তা সারসহ একজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে এসব সামগ্রীর সঙ্গে অবৈধ কার্যক্রমের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।
একই দিনে পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের নিকট পরিচালিত আরেকটি অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ও জব্দকৃত সারের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এর আগে ১০ জুন দুপুরে রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্ট এলাকায় একটি বিশেষ বিজিবি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় একটি সিএনজি অটোরিকশা তল্লাশি করে ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সিএনজি চালক মো. আনচারুল করিম (৩৫) এবং যাত্রী জান্নাত আরা (২০)কে আটক করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, রামুতে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে টেকনাফেও পৃথক অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেখানে ৫ লাখ পিস ইয়াবাসহ দুই মিয়ানমার নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন খায়াংখালীর সাজিদ এবং দলিয়াপাড়ার এনাম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সীমান্তপথে ইয়াবা পাচারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টেকনাফ থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ইয়াবার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। এসব মাদক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া, রামু ও টেকনাফে পরিচালিত পৃথক অভিযানে মোট ৫ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো বলছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার, চোরাচালান এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, ধারাবাহিক কক্সবাজারে ইয়াবা উদ্ধার অভিযানের ফলে মাদক পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক দুর্বল হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।