এলপিজি সংকট: খুলনায় গ্যাসের অভাবে বেড়েছে জালানী কাঠের দাম, ভোগান্তিতে ভোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী
মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো:
খুলনা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশে চাহিদা বেড়েছে, তবে আমদানির মাত্রা কম থাকায় ভোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সীমাহীন দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য পরিস্থিতি গুরুতর।
এলপিজির অভাবের কারণে কিছু ডিলার সিলিন্ডার বিক্রি করছেন মূল্যের চেয়ে ৪০০–৫০০ টাকা বেশি দামে। অনেকেই সংকট মোকাবেলায় জালানী কাঠ ব্যবহার শুরু করেছেন। ফলে জালানী কাঠের দামও বেড়েছে। খুলনার বাজারে মন প্রতি চম্বল কাঠ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা এবং মেহগুনি কাঠ ১৯০–২০০ টাকায়, যা আগে তুলনায় ১০–২০ টাকা বেশি।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ১০% হারে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যায়। ২০২৩ সালে এলপিজি আমদানি হয়েছিল ১২ লাখ ৭৫ হাজার টন, কিন্তু ২০২৪ সালে মাত্র ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টন এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০% কম। বছরের শেষ তিন মাসে আমদানি কমে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
সংক্রান্ত সুত্র জানায়, একদিকে ইরান থেকে সরবরাহ বন্ধ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজ ভাড়া ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এলপিজি আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। তবে সরকার সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিপাইন থেকে আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে।
খুলনার হোটেল ব্যবসায়ী মোঃ আলামিন জানান, “আগে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,২৫০ টাকায় কিনতাম, এখন ১,৫৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এভাবে চললে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী টিকে থাকতে পারবে না।”
অন্যদিকে, জালানী কাঠের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান ও লিটন বলেন, “গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে জালানী কাঠের চাহিদা বেড়েছে। এখন চম্বল কাঠ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, মেহগুনি ১৯০–২০০ টাকায়।”