পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয়ে আকস্মিক কেমিক্যালজনিত দুর্ঘটনায় শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা সেবা দিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সালাহউদ্দিন ইউসুফ নিবিড়।
গত মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুরে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে অজ্ঞাত কেমিক্যালের বোতল ভেঙে বিষাক্ত গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা এবং আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দ্রুত শিক্ষার্থীদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হয়। সেখানে উপস্থিত চিকিৎসক ডা. সালাউদ্দিন ইউসুফ নিবিড় অত্যন্ত দক্ষতা, ধৈর্য এবং মানবিক মনোভাব নিয়ে পুরো পরিস্থিতি সামাল দেন। তিনি দ্রুত ট্রায়াজ ব্যবস্থা চালু করে গুরুতর রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা প্রদান করেন।
শুধু চিকিৎসা নয়, তিনি অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে সাহস দেন এবং আতঙ্ক কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং মানবিক আচরণের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অল্প সময়ের মধ্যেই স্বস্তি ফিরে পায়।
অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও নার্সদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী সুস্থ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ডা. সালাউদ্দিন ইউসুফ নিবিড়ের মানবিক ভূমিকা এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, এমন সংকটময় মুহূর্তে দ্রুত চিকিৎসা সেবা না পেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। তাদের মতে, ডা. নিবিড়ের মতো মানবিক চিকিৎসক থাকায় বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে শতাধিক শিক্ষার্থী।
ডা. সালাউদ্দিন ইউসুফ নিবিড় ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি রোগীদের প্রতি আন্তরিক ব্যবহার, দ্রুত সেবা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সবার আস্থা অর্জন করেছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, চিকিৎসা পেশায় মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি করেছেন তিনি। তার এই ভূমিকা ঈশ্বরদী এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।