ইসরা ও মেরাজের স্মৃতিতে ইবাদতে মুখর মুসলিম বিশ্ব
আওরঙ্গজেব কামাল
আজ পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ। ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ এই রাতটি গভীর শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও ইবাদতের মধ্য দিয়ে পালন করছেন বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
শবে মেরাজ কথাটি আরবি থেকে উদ্ভূত— শব অর্থ রাত এবং মেরাজ অর্থ ঊর্ধ্বগমন। অর্থাৎ শবে মেরাজ মানে ‘ঊর্ধ্বগমনের রাত’। ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, নবুওয়াতের দশম বর্ষে (৬২১ খ্রিষ্টাব্দে) পবিত্র এই রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহ তায়ালার বিশেষ ব্যবস্থাপনায় মক্কার কাবা শরিফ থেকে বাইতুল মুকাদ্দাসে গমন করেন। এই ঘটনাকে পবিত্র কুরআনে ‘ইসরা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর তিনি বিশেষ বাহন ‘বুরাক’-এ আরোহণ করে সপ্তম আকাশ অতিক্রম করে আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্যে উপনীত হন—যা ‘মেরাজ’ নামে পরিচিত। এ অলৌকিক সফরে তার সঙ্গী ছিলেন ফেরেশতাদের সরদার হযরত জিবরাইল (আ.)। মেরাজের পথে তিনি সিদরাতুল মুনতাহা, বায়তুল মা’মুর এবং জান্নাতের বিভিন্ন নিদর্শন পরিদর্শন করেন। এই মহিমান্বিত সফর মানব ইতিহাসে এক অতুলনীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।
শবে মেরাজের সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো—এই রাতেই মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়। নামাজ এমন এক ইবাদত, যা সরাসরি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে উম্মতের জন্য উপহার হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। প্রথমে ৫০ ওয়াক্ত নির্ধারিত হলেও মহানবী (সা.)-এর উম্মতের প্রতি ভালোবাসা ও আল্লাহর অসীম রহমতে তা কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত করা হয়, তবে সওয়াব রাখা হয় পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমান।
এই পবিত্র রাতে আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নৈকট্য লাভের আশায় মুসলমানরা মসজিদে-মসজিদে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতে মশগুল থাকেন। অনেকেই নিজ নিজ ঘরে কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ইবাদতের মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করেন।
শবে মেরাজ উপলক্ষে শরিয়তে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ আমল নির্ধারিত না থাকলেও মুসলমানরা নফল ইবাদত, তাওবা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে এ রাত কাটাতে আগ্রহী হন। বিভিন্ন মসজিদ ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ওয়াজ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। অনেকে নফল রোজা পালন করেন এবং বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করেন।
শবে মেরাজ মুসলমানদের জন্য কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; বরং এটি আত্মসমালোচনা, তাকওয়া অর্জন এবং নিয়মিত নামাজ ও ইবাদতে ফিরে আসার এক গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা।
আল্লাহ তায়ালা যেন সবাইকে এই মহিমান্বিত রাতের শিক্ষা অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করেন—এই কামনাই সকলের।
লেখক ও গবেষক:
আওরঙ্গজেব কামাল
সভাপতি
ঢাকা প্রেস ক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব