মস্ত মিয়া,জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া :
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিকট অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি নাজুক। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলায় দৃশ্যমান উন্নতি না হলে সরকারের জন্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি দুঃখজনক হতে পারে।
শুক্রবার (২৬ জুন) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের ঘাগড়াজুড়ি গ্রামে একটি সড়ক নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, দেশের মানুষ বর্তমানে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চাপ—দুই ধরনের সংকটের মুখোমুখি। তার মতে, সরকার যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অর্থনীতির উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে না পারে, তাহলে এর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব গুরুতর হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নতুন অর্থবছরের বাজেট নিয়ে সংসদেও তিনি বক্তব্য রেখেছেন। তার দাবি, বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকার সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের ওপর বড় দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে প্রত্যাশিত তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, অন্য বিষয়ের তুলনায় নিজ মন্ত্রণালয়ে আরও বেশি গুরুত্ব দিলে দেশের জনগণ উপকৃত হতো।
এ সময় তিনি বিএনপির স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলাকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগও তোলেন। তার দাবি, একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আরেকটি মামলায় জড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বিচারব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন এলাকায় মামলাকে কেন্দ্র করে ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তিনি সংসদে উত্থাপন করেছেন এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলেও জানান। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানান।
রুমিন ফারহানা বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই দেশের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আইন মেনে চলা এবং দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।