মোঃ রাসেল মিয়া
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধে এই অভিযান পরিচালনা করে সাঘাটা থানা পুলিশ। অভিযানে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল বিকাল আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটে সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। একযোগে অভিযান চালানো হয় সাঘাটা ইউনিয়নের মুন্সীরহাট এলাকা এবং হলদিয়া ইউনিয়নের নলছিয়া নদী এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল বলে অভিযোগ ছিল।
অভিযানের সময় নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে পুলিশ নজরদারি চালায়। পরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ সবুজ মিয়া (৪২), পিতা আব্দুল কুদ্দুস, সাং কচুয়াহাট এবং মোঃ জুয়েল আমিন (৩৭), পিতা মোঃ জহির উদ্দিন সরকার, সাং উত্তর সাথালিয়া। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী চক্র নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এর ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। অনেক কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। এছাড়া নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল।
স্থানীয়রা আরও জানান, রাত ও ভোরের দিকে ট্রাক ও নৌযানের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু পরিবহন করা হতো। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলেও সমস্যা তৈরি হতো এবং এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছিল। দীর্ঘদিনের এই সমস্যার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়।
সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, নদী রক্ষা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে। তিনি আরও জানান, কোনো অবস্থাতেই এই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। নিয়মিত নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতেও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, শুধু এই অভিযান নয়, অবৈধ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে নদী ভাঙন কমবে এবং পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোও ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে।
স্থানীয়দের দাবি, এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালু রাখা জরুরি। এতে শুধু নদী নয়, পুরো এলাকার পরিবেশ ও জনজীবন সুরক্ষিত থাকবে।